সাধারণ জ্ঞানও সাধারণ নয়

লিখিত পরীক্ষায় ভালো করলেই মিলতে পারে চাকরি। তিন পর্বের ধারাবাহিকের শেষ পর্বে আজ বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি। লিখেছেন ৩০তম বিসিএসে প্রথম সুশান্ত পাল

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

=========================

.♦ অন্তত তিন-চার সেট গাইড বই কিনে ফেলুন। বিভিন্ন রেফারেন্স বই, যেমন—মোজাম্মেল হকের উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশের সংবিধান নিয়ে বই (যেমন—আরিফ খানের সহজ ভাষায় বাংলাদেশের সংবিধান), মুক্তিযুদ্ধের ওপর বই (যেমন—মঈদুল হাসানের মূলধারা : ’৭১), নীহারকুমার সরকারের ছোটদের রাজনীতি, ছোটদের অর্থনীতি, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নাগরিকদের জানা ভালো, আকবর আলী খানের পরার্থপরতার অর্থনীতি, আজব ও জবর-আজব অর্থনীতি, আব্দুল হাইয়ের বাংলাদেশ বিষয়াবলি ইত্যাদি বই পড়ে ফেলুন।

♦ চার ঘণ্টা না বুঝে স্টাডি করার চেয়ে এক ঘণ্টা প্রশ্ন স্টাডি করা অনেক ভালো। বেশি বেশি প্রশ্নের প্যাটার্ন স্টাডি করলে কিভাবে অপ্রয়োজনীয় টপিক বাদ দিয়ে পড়া যায়, সেটা শিখতে পারবেন। তিন-চার সেট সাজেশনস বানান নিজেই।

♦ প্রতিদিন পড়ে ফেলুন চার-পাঁচটি পত্রিকা। কলামগুলো পড়ে বুঝে নেবেন, কোন কোন টপিক থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন হতে পারে। সময়ের প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিকতা অনুসারে প্রশ্নের ধরন বদলাতে পারে। বিভিন্ন কলাম পড়ার সময় কোন কলামিস্ট কোন বিষয় নিয়ে লেখেন এবং কোন স্টাইলে লেখেন, সেটা খুব ভালো করে খেয়াল করুন এবং নোটবুকে লিস্ট করে কলামিস্টের নাম, এর পাশে এরিয়া অব ইন্টারেস্ট, রাইটিং স্টাইল লিখে রাখুন। পরীক্ষার খাতায় উদ্ধৃতি দেওয়ার সময় এটা কাজে লাগবে।

♦ পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার সময় উদ্ধৃতির নিচে সোর্স ও তারিখ উল্লেখ করতে হবে। পরীক্ষার খাতায় এমন কিছু দিন, যেটা আপনার খাতাকে আলাদা করে তোলে। যেমন—বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে সোর্সসহ রেফারেন্স দিতে পারেন। উইকিপিডিয়া কিংবা বাংলাপিডিয়া থেকে উদ্ধৃত করতে পারেন। প্রয়োজনীয় চিহ্নিত চিত্র ও ম্যাপ আঁকুন। যথাস্থানে বিভিন্ন ডাটা, টেবিল, চার্ট, রেফারেন্স দিন।

♦ নোট করে পড়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কোন প্রশ্নটা কোন সোর্স থেকে পড়ছেন, সেটা প্রশ্নের পাশে লিখে রাখুন, রিভিশন দেওয়ার সময় কাজে লাগবে। বাংলাদেশের সংবিধানের ব্যাখ্যা, বিভিন্ন সংস্থার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট, উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, ন্যাশনাল ওয়েবপোর্টাল ইত্যাদি নিয়মিত দেখুন। তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে রাখুন। পুরো সংবিধান মুখস্থ করার দরকার নেই। যেসব ধারা থেকে বেশি প্রশ্ন আসে, সেগুলোর ব্যাখ্যা বুঝে পড়ুন। সংবিধানের ধারা হুবহু উদ্ধৃত করতে হয় না।

♦ বিসিএস পরীক্ষায় বেশির ভাগ প্রশ্নই কমন পড়ে না। বিভিন্ন রেফারেন্স, টেক্সট, গাইড ও প্রামাণ্য বই পড়া থাকলে উত্তর করাটা সহজ হয়। উত্তরে বিভিন্ন লেখকের রচনা, পত্রিকার কলাম ও সম্পাদকীয়, ইন্টারনেট এবং বিভিন্ন সোর্স থেকে উদ্ধৃতি দিলে মার্কস বাড়বে। এই অংশগুলো লিখতে নীল কালি ব্যবহার করলে সহজে পরীক্ষকের চোখে পড়বে। চেষ্টা করবেন প্রতি পেইজে অন্তত একটা কোটেশন, ডাটা, টেবিল, চার্ট কিংবা রেফারেন্স দিতে।

♦ লেখা সুন্দর হলে ভালো, না হলেও সমস্যা নেই। খেয়াল রাখবেন, যাতে লেখা পড়া যায়। প্রতি তিন থেকে পাঁচ মিনিটে এক পৃষ্ঠা লেখার প্র্যাকটিস করুন।

♦ কোনো প্রশ্ন ছেড়ে আসবেন না, উত্তর জানা না থাকলে ধারণা থেকে অন্তত কিছু না কিছু লিখে আসুন। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন টপিক নিয়ে লেখার চর্চা এ ক্ষেত্রে কাজে আসবে।

♦ বিভিন্ন বিষয়ে পড়ার অভ্যাস বাড়ান। এতে আপনার লেখা মানসম্মত হবে। কোনো উত্তরই মুখস্থ করার দরকার নেই। ধারণা থেকে লেখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কেউই সব কিছু হুবহু লিখে চাকরি পায় না, রিটেনে সবাই বানিয়ে লেখে। ঠিকভাবে বানিয়ে লেখাটাও একটা আর্ট।


আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

♦ শর্ট কনসেপচুয়াল নোটস : আগের বছরের প্রশ্ন, রেফারেন্স বই, গাইড বই, পেপার ঘেঁটে ঘেঁটে কী কী টীকা আসতে পারে তালিকা করুন। এরপর সেগুলো ইন্টারনেট থেকে পড়ে ফেলুন। সঙ্গে পেপার কাটিং, ওয়ার্ড ফাইলে সেভ করা পত্রিকার আর্টিকেল, গাইড বই আর রেফারেন্স বই তো আছেই! এ অংশে উত্তরের শেষের দিকে আপনার নিজস্ব বিশ্লেষণ মার্কস বাড়বে।

♦ অ্যানালাইটিক্যাল কোয়েশ্চেনস : যত বেশি সম্ভব তত পয়েন্ট দিয়ে প্যারা করে করে লিখবেন। এ অংশে ১টি ১৫ মার্কসের প্রশ্নের উত্তর করার চেয়ে ৪+৬+৫=১৫ মার্কসের প্রশ্নের উত্তর করাটা ভালো। প্রশ্নের প্রথম আর শেষ প্যারাটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় হওয়া চাই। বেশি বেশি কোটেশন দিন। বিভিন্ন কলামিস্টের দৃষ্টিকোণ থেকে কোন ইস্যু ব্যাখ্যা করে উত্তরের শেষের দিকে নিজের মতো করে উপসংহার টানুন। কোনো মন্তব্য কিংবা মতামত থাকলে অবশ্যই লিখুন।

♦ প্রবলেম সলভিং কোয়েশ্চেন : আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে কিছু কথা লেখা থাকবে কিংবা কোনো একটা সমস্যার কথা দেওয়া থাকবে। নানা দিক বিবেচনায় বিশ্লেষণ করে সমাধান কী হতে পারে, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক এবং আপনার নিজের মতামত সহকারে পয়েন্ট আকারে লিখুন। এটিতে ভালো করার জন্য নিয়মিত পত্রপত্রিকা পড়ার কোনো বিকল্প নেই।

♦ আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির মোটামুটি সব প্রশ্নের উত্তরই নেটে পাবেন। তাই টপিকগুলো গুগলে সার্চ করে পড়লেই সবচেয়ে ভালো হয়। প্রয়োজনে টপিকের নাম বাংলায় টাইপ করে সার্চ করুন। উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, বিভিন্ন সংস্থার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে প্রশ্নের উত্তর পড়লে সময় বাঁচবে, মার্কসও বাড়বে। পত্রিকার দৈনিক ও সাপ্তাহিক আন্তর্জাতিক পাতা, দি ইকোনমিস্ট, টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য হিন্দুসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পত্রিকা থেকে প্রয়োজনীয় আর্টিকেলগুলো পড়তে পারেন। ইন্টারনেট ঘেঁটে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বিশ্লেষণধর্মী মন্তব্য ও সমালোচনা পড়ে নিন। এতে লেখা ধারালো হবে।

এ সময় আপনার চিন্তাভাবনা ও কাজকর্মকে স্বপ্নকেন্দ্রিক করে ফেলুন। আপনার স্বপ্নের যত্ন নিন, স্বপ্নও আপনার যত্ন নেবে। স্বপ্নকে ছুঁয়ে ফেলার সুন্দর মুহূর্তটিতে আপনাকে স্বাগত!