36th BCS Preliminary Question Full Solution: বাংলা

০১. ‘বন্ধন’ শব্দের সঠিক অক্ষর বিন্যাস কোনটি?

(ক) ব + ন্ + ধ + ন্
(খ) বন্ + ধন্
(গ) ব + ন্ধ + ন
(ঘ) বান্ + ধন্

উত্তরঃ (খ) বন্ + ধন্

ব্যাখ্যা: সাধারণ অর্থে অক্ষর বলতে বর্ণ বা হরফ (Letter)-কে বোঝালে ও প্রকৃত অর্থে অক্ষর ও বর্ণ পরস্পরের প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ নয়। অক্ষর হচ্ছে বাগযন্ত্রের স্বল্পতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ। আর বর্ণ বা হরফ হচ্ছে ধ্বনির চক্ষুগ্রাহ্য লিখিতরুপ বা ধ্বনি-নির্দেশক চিহ্ন বা প্রতীক। ইংরেজিতে আমরা যাকে Syllable বলে অভিহিত করি, তাই অক্ষর। উদাহরণস্বরুপ, ইংরেজি ‘Incident’ শব্দে ‘In-ci-dent’-এ তিনটি Syllable আছে। এই তিনটি Syllable-ই হলো অক্ষর। কিন্তু, আলাদাভাবে ‘ I-n-c-i-d-e-n-t’- এগুলাে অক্ষর নয়; এগুলো বর্ণ বা হরফ। তদ্রুপ, বাংলা ‘বন্ধন’ শব্দেও বন্+ধন্- এ দুটো অক্ষর। কিন্তু ব+ন্ +ধ্+ন্ -এগুলো অক্ষর নয়; এগুলো বর্ণ বা হরফ।

০২. বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ কয়টি?

(ক) ৭টি
(খ) ৯টি
(গ) ১০টি
(ঘ) ৮টি

উত্তরঃ (ঘ) ৮টি

ব্যাখ্যা: বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ আটটি। যথা: ঋ, খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ; এবং মাত্রাহীন বর্ণ দশটি। যথা: এ, ঐ ও , ঔ, ঙ, ঞ , ৎ,ং, ঃ। এছাড়া পূর্ণমাত্রার বর্ণ ৩২ টি।

০৩. ‘বিজ্ঞান’ শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ কোনটি?

(ক) জ + ঞ
(খ) ঞ + গ
(গ) ঞ + জ
(ঘ) গ + ঞ

উত্তরঃ (ক) জ + ঞ

ব্যাখ্যা: ‘বিজ্ঞান’ শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিক রুপ: জ্+ঞ। এছাড়া এ যুক্ত বর্ণ দ্বারা এ যুক্ত বর্ণ দ্বারা গঠিত শব্দ: জ্ঞান, সংজ্ঞা ইত্যাদি।

০৪. নিচের কোন শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়নি?

(ক) সভাসদ
(খ) শুভেচ্ছা
(গ) ফলবান
(ঘ) তন্বী

উত্তরঃ (খ) শুভেচ্ছা

ব্যাখ্যা: ‘শুভেচ্ছ’ শব্দটি সন্ধিসাধিত শব্দ। ‘অ’-কার কিংবা ‘আ’-কারের পর ‘ই’-কার কিংবা ‘ঈ’-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়’ যেমন: অ+ই=এ; শুভ+ইচ্ছা=শুভেচ্ছা। তন্বী (তনু+ঈ) প্রত্যয় ও সন্ধি -উভয় সাধিত শব্দ। এছাড়া সভাসদ (সভা+সদ ) ও ফলবান (ফল+বান) প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ। সে অনুযায়ী সঠিক উত্তর (খ)।

০৫. বহুব্রীহি সমাসবদ্ধ পদ কোনটি?

(ক) জনশ্রুতি
(খ) অনমনীয়
(গ) খাসমহল
(ঘ) তপোবন

উত্তরঃ (খ) অনমনীয়

ব্যাখ্যা: জন দ্বারা শ্রুতি= জনশ্রুতি (তৃতীয়া তৎপুরুষ); তপের নিমিত্ত বন= তপোবন (চতুর্থী তৎপুরুষ); খাস যে মহল= খাসমহল (কর্মধারয়); নেই নমন যার= অনমনীয় (নঞ বহুব্রীহি সমাস) সুতরাং সঠিক উত্তর (খ)।

০৬. নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ?

(ক) জাত
(খ) গৈরিক
(গ) উদ্ধত
(ঘ) গাম্ভীর্য

উত্তরঃ (ঘ) গাম্ভীর্য

ব্যাখ্যা: ‘জাত’ বিশেষণ পদটির অর্থ: জন্মেছে এমন; ‘গৈরিক’ বিশেষণবাচক পদটির অর্থ: যার স্বভাবে বিনয়ের অভাব এবং ‘গাম্ভীর্য’ বিশেষ্যবাচক শব্দটির অর্থ: গম্ভীরতা বা গম্ভীর ভাব। সুতরাং সঠিক উত্তর (ঘ)।

০৭. নিচের কোন শব্দে ণত্ব বিধি অনুসারে ‘ণ’-এর ব্যবহার হয়েছে?

(ক) কল্যাণ
(খ) প্রবণ
(গ) নিক্কণ
(ঘ) বিপণি

উত্তরঃ (খ) প্রবণ

ব্যাখ্যা: ‘কল্যাণ’ ‘নিক্কণ’ ও ‘বিপণি’- শব্দগুলো ‘ণ’ -এর স্বভাবগত নিয়মে গঠিত হয়েছে। অন্যদিকে প্র, পরি, নির- এ তিনটি উপসর্গের পর ‘প’-বর্গের ৫ টি (প, ফ,ব,ভ,ম) বর্ণ থাকলে তারপরে ‘ন’ ধ্বনি থাকলে তা মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: প্রবণ, প্রমাণ ইত্যাদি। সুতরাং সঠিক উত্তর (খ)।

০৮. “মিথ্যাবাদীকে সবাই অপছন্দ করে”-বাক্যটিকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করলে হয়–

(ক) মিথ্যাবাদীকে সবাই পছন্দ করে
(খ) মিথ্যাবাদীকে সবাই পছন্দ না করে পারে না
(গ) মিথ্যাবাদীকে কেউ পছন্দ করে না
(ঘ) মিথ্যাবাদীকে কেউ অপছন্দ করে না

উত্তরঃ (গ) মিথ্যাবাদীকে কেউ পছন্দ করে না

ব্যাখ্যা: না-সূচক বাক্যে না, নয়, নহে, নি, নেই, নাহি, নাই ইত্যাদি নঞর্থক অব্যয় ব্যবহার করতে হবে। না-বাচক ক্রিয়া ও না-বাচক শব্দ বা না-বাচক অব্যয় মিলে বাক্যে দু’বার ব্যবহার করে অস্তিবাচক বা হ্যাঁ-সূচক ভাব বজায় রাখতে হবে। মিথ্যাবাদীকে সবাই অপছন্দ করে’- বাক্যটির নেতিবাচক রুপ ‘মিথ্যাবাদীকে কেউ পছন্দ করে না।’

০৯. ‘Null and Void’–এর বাংলা পরিভাষা কী?

(ক) বাতিল
(খ) পালাবদল
(গ) মামুলি
(ঘ) নিরপেক্ষ

উত্তরঃ (ক) বাতিল

ব্যাখ্যা: ‘Null and Void’ এর পরিভাষা হলো: ‘বাতিল’। অন্য option গুলোর মধ্যে পালাবদল-এর ইংরেজি পরিভাষা হচ্ছে by turns: মামুলি- trifling এবং নিরপেক্ষ= neutral.

১০. ‘হেড মৌলভী’ কোন কোন ভাষার শব্দ যোগে গঠিত হয়েছে?

(ক) ইংরেজি + ফার্সি
(খ) ইংরেজি + আরবি
(গ) তুর্কি + আরবি
(ঘ) ইংরেজি + পর্তুগিজ

উত্তরঃ (ক) ইংরেজি + ফার্সি

ব্যাখ্যা: যেসব শব্দ দেশি ও বিদেশি ভাষার সংমিশ্রণে কিংবা দুটি ভাষার দুটি শব্দের মিলনে গঠিত হয়, তাকে মিশ্র শব্দ বলে। যেমন: ‘হেডমৌলভী’ (ইংরেজি+ফারসি) দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। এরকম আর ও কিছু শব্দ হলো: হাটবাজার (বাংলা+ফারসি); চৌহদ্দি (ফারসি+আরবি); রাজ-বাদশা (তৎসম+ফারসি) ইত্যাদি।

১১. ‘রবীন্দ্র’-এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?

(ক) রবী + ইন্দ্র
(খ) রবী + ঈন্দ্র
(গ) রবি + ইন্দ্র
(ঘ) রবি + ঈন্দ্র

উত্তরঃ (গ) রবি + ইন্দ্র

ব্যাখ্যা: ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ‘ই’-কার কিংবা ‘ঈ’-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ‘ঈ’-কার হয়। দীর্ঘ ‘ঈ’-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনে সাথে যুক্ত হয়। যেমন: রবি+ইন্দ্র=রবীন্দ্র, অতি+ইত=অতীত, পরি+ঈক্ষা=পরীক্ষা ইত্যাদি।

১২. “এ যে আমাদের চেনা লোক”-বাক্যে ‘চেনা’ কোন পদ?

(ক) বিশেষ্য
(খ) অব্যয়
(গ) ক্রিয়া
(ঘ) বিশেষণ

উত্তরঃ (ঘ) বিশেষণ

ব্যাখ্যা: যে পদ দ্বারা বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে। এ বাক্যে ‘চেনা’ শব্দটি দ্বারা লোকটির পরিচিতি বা অবস্থা প্রকাশ করছে, তাই এটি বিশেষদ পদ।

১৩. ‘প্রকর্ষ’ শব্দের সমার্থক শব্দ–

(ক) উৎকর্ষতা
(খ) অপকর্ষ
(গ) উৎকর্ষ
(ঘ) অপকর্ষতা

উত্তরঃ (গ) উৎকর্ষ

ব্যাখ্যা: ‘প্রকর্ষ’ বিশেষ্যবাচক শব্দটির সমার্থক শব্দ: উৎকর্ষ, শ্রেষ্ঠত্ব, উন্নতি।

১৪. কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের রচনা নয়?

(ক) ছায়ানট
(খ) চক্রবাক
(গ) রুদ্রমঙ্গল
(ঘ) বালুচর

উত্তরঃ (ঘ) বালুচর

ব্যাখ্যা: ‘ছায়ানট’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। চক্রবাক কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। ‘রুদ্রমঙ্গল’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। ‘বালুচর’ জসীমউদ্দীন রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

১৫. ‘সবুজপত্র’ প্রকাশিত হয় কোন সালে?

(ক) ১৯০৯
(খ) ১৯১০
(গ) ১৯১৪
(ঘ) ১৯২১

উত্তরঃ (গ ১৯১৪

ব্যাখ্যা: প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ। বাংলা সাহিত্যে কথ্যরীতির প্রচলনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক সুবচন নির্বাসনে রক্তাক্ত প্রান্তর নুরলদীনের সারা জীবন পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।

১৬. মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক–

(ক) সুবচন নির্বাসনে
(খ) রক্তাক্ত প্রান্তর
(গ) নুরুলদীনের সারা জীবন
(ঘ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়

উত্তরঃ (ঘ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়

ব্যাখ্যা: ‘সুবচন নির্বাসনে’ আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত একটি বিখ্যাত নাটক। ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ মুনীর চৌধুরী রচিত একটি ঐতিহাসিক নাটক। ‘নূরলদীনের সারা জীবন সৈয়দ শামসুল হকের একটি ঐতিহাসিক নাটক। ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি কাব্যনাট্য।

১৭. কোনটি জসীমউদ্দীনের নাটক?

(ক) রাখালী
(খ) মাটির কান্না
(গ) বেদের মেয়ে
(ঘ) বোবা কাহিনী

উত্তরঃ (গ) বেদের মেয়ে

ব্যাখ্যা: ‘রাখালী’ পল্লিকবি জসীম উদ্দিন রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এছাড়া ‘মাটির কান্না’ তার আরেকটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। ‘বোবাকিহিনী ‘তার রচিত একমাত্র উপনন্যাস ‘বেদের মেয়” জসীমউদ্দীনের বিখ্যাত লোকনাট্য।

১৮. মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে কোন ধর্মপ্রচারক–এর প্রভাব অপরিসীম?

(ক) শ্রী চৈতন্যদেব
(খ) শ্রীকৃষ্ণ
(গ) আদিনাথ
(ঘ) মনোহর দাশ

উত্তরঃ (ক) শ্রী চৈতন্যদেব

১৯. মুনীর চৌধুরীর অনূদিত নাটক কোনটি?

(ক) কবর
(খ) চিঠি
(গ) রক্তাক্ত প্রান্তর
(ঘ) মুখরা রমণী বশীকরণ

উত্তরঃ (ঘ) মুখরা রমণী বশীকরণ

ব্যাখ্যা: শেক্সপিয়ারের ‘টেমিং অব দ্য শ্রু’ নাটকের অনুবাদ করে মুনীর চৌধুরী রচনা করেন ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’ এছাড়া তার রচিত ‘কবর’ ভাষা আন্দোলনভিত্তিক, ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) এবং ‘চিঠি’ নাটকটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা বিশেষ সময়কে ভিত্তি করে রচিত হয়েছে।

২০. কোনটি উপন্যাস নয়?

(ক) দিবারাত্রির কাব্য
(খ) হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
(গ) কবিতার কথা
(ঘ) পথের পাঁচালী

উত্তরঃ (গ) কবিতার কথা

ব্যাখ্যা: ‘কবিতার কথা’ জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি প্রবন্ধ গ্রন্থ। ‘দিবারাত্রির কাব্য’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা; তারশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস; ‘পথের পাঁচালী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।

২১. ‘বিষাদ–সিন্ধু’ একটি–

(ক) গবেষণা গ্রন্থ
(খ) ধর্মবিষয়ক প্রবন্ধ
(গ) ইতিহাস আশ্রয়ী উপন্যাস
(ঘ) আত্মজীবনী

উত্তরঃ (গ) ইতিহাস আশ্রয়ী উপন্যাস

ব্যাখ্যা: ‘বিষাদ সিন্ধু’ মীর মশাররফ হোসেন রচিত ইতিহাস আশ্রয়ী উপন্যাস। এটি তার অমর সৃষ্টি। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা) এর দৌহিত্র ইমাম হোসেনের সঙ্গে দামেঙ্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যু ‘বিষাদ সিন্ধু’ গ্রন্থের মূল বিষয়।

২২. মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?

(ক) ১৭৫৬
(খ) ১৭৫২
(গ) ১৭৬০
(ঘ) ১৭৬২

উত্তরঃ (গ) ১৭৬০

ব্যাখ্যা: মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ১৭৬০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১৭১২ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার পাণ্ডুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার কবি প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য। বাংলা সাহিত্যের অমর চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর করা ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে’ উক্তিটি দ্বারা তার কবি প্রতিভার প্রমাণ পাওয়া যায়।

২৩. ‘তোহফা’ কাব্যটি কে রচনা করেন?

(ক) দৌলত কাজী
(খ) মাগন ঠাকুর
(গ) সাবিরিদ খান
(ঘ) আলাওল

উত্তরঃ (ঘ) আলাওল

ব্যাখ্যা: ‘তোহফা কাব্যটি ম্যধযুগের শ্রেষ্ঠ কবি সৈয়দ আলাওল রচনা করেন। তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ রচনা ‘পদ্মাবতী’ তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: সিকান্দারনামা, সয়ফুলমুলুক -বদিউজ্জামাল।

২৪. এন্টনি ফিরিঙ্গি কী জাতীয় সাহিত্যের রচয়িতা?

(ক) কবিগান
(খ) পুঁথি সাহিত্য
(গ) নাথ সাহিত্য
(ঘ) বৈষ্ণব পদ সাহিত্য

উত্তরঃ (ক) কবিগান

ব্যাখ্যা: এন্টনি ফিরিঙ্গি কবিগান রচয়িতা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের সুবিশাল পরিসরের শেষ পর্যায়ে কবিগানের উদ্ভব ঘটেছিল।

২৫. ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ গ্রন্থটির প্রণেতা–

(ক) উইলিয়াম কেরি
(খ) গোলকনাথ শর্মা
(গ) রামরাম বসু
(ঘ) হরপ্রসাদ রায়

উত্তরঃ (গ) রামরাম বসু

ব্যাখ্যা: রামরাম বসু রচিত ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ গ্রন্থে রাজা প্রতাপাদিত্য সম্পর্কে জ্ঞাত কাহিনিগুলোর বর্ণনা প্রদান করা হয়েছে। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যক্ষ উইলিয়াম কেরি রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ ‘কথোপকথন’। গোলকনাথ শর্মার ‘হিতোপদেশ’ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পাঠ্যপুস্তক হিসেবে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়। হরপ্রসাদ রায়ের অনূদিত গ্রন্থ ‘ পুরুষপরীক্ষা’।

২৬. ‘ইয়ং বেঙ্গল’ গোষ্ঠীর মুখপত্ররূপে কোন পত্রিকা প্রকাশিত হয়?

(ক) বঙ্গদূত
(খ) জ্ঞানান্বেষণ
(গ) জ্ঞানাঙ্কুর
(ঘ) সংবাদ প্রভাকর

উত্তরঃ (খ) জ্ঞানান্বেষণ

ব্যাখ্যা: ইয়ং বেঙ্গল বলতে ইংরেজি ভাবধারাপুষ্ট বাঙালি যুবকদের বোঝাত। মিশনারিদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠী মুক্ত চিন্তা দ্বারা উজ্জীবিত হয়েছিল। ‘ইয়ংবেঙ্গল’ গোষ্ঠীর মুখপত্ররুপে ‘জ্ঞানন্বেষণ’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় ১৮৩১ সাল থেকে ১৮৪৪ সাল পর্যন্ত। ‘বঙ্গদূত’ নীলমণি হালদারের সম্পাদনায় ১৮২৯ সালে প্রকাশিত হয় ১৮৩১ সাল থেকে ১৮৪৪ সাল পর্যন্ত। ‘বঙ্গদূত’ নীলমণি হালদারের সম্পাদনায় ১৮২৯ সালে প্রকাশিত হয়। ‘সংবাদ প্রভাকর ‘ ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনায় ১৮৩১ সালে প্রকাশিত হয়। এটি বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক পত্রিকা। ‘জ্ঞানাঙ্কুর’ ১৮০২ সালে শ্রীকৃষ্ণ দাসের সম্পাদনায় প্রকশিত হয়।

২৭. হরিনাথ মজুমদার সম্পাদিত পত্রিকার নাম–

(ক) অবকাশ রঞ্জিকা
(খ) বিবিধার্য সংগ্রহ
(গ) কাব্য প্রকাশ
(ঘ) গ্রামবার্তা প্রকাশিকা

উত্তরঃ (ঘ) গ্রামবার্তা প্রকাশিকা

ব্যাখ্যা: হরিনাথ মজুমদার সম্পাদিত’ গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ ১৮৬৩ সালে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়, যা পরবর্তীতে পাক্ষিক ও সর্বশেষে সাপ্তাহিক পরিণত হয়। ১৮৭৩ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালি গ্রামে এ পত্রিকার নিজস্ব ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয়।

২৮. নিচের কোনটি ভ্রমণ সাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থ নয়?

(ক) চার ইয়ারী কথা
(খ) পালামৌ
(গ) দৃষ্টিপাত
(ঘ) দেশে বিদেশে

উত্তরঃ (ক) চার ইয়ারী কথা

ব্যাখ্যা: ‘চার ইয়ারী কথা’ প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ। ‘পালামৌ’ সঞ্জীবচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণ কাহিনিমূলক গ্রন্থ। ‘দেশে বিদেশে’ সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিন। ‘দৃষ্টিপাত’ যাযাবর রচিত ভ্রমণকাহিনি। সুতরাং সঠিক উত্তর (ক)।

২৯. নিচের যে উপন্যাসে গ্রামীণ সমাজ জীবনের চিত্র প্রাধান্য লাভ করেনি–

(ক) গণদেবতা
(খ) পদ্মানদীর মাঝি
(গ) সীতারাম
(ঘ) পথের পাঁচালী

উত্তরঃ (গ) সীতারাম

ব্যাখ্যা: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের গণদেবতা উপন্যাসে গ্রামীণ সমাজ জীবনের চিত্র প্রাধান্য লাভ করেছে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসে গ্রামীন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথের পাঁচালী উপন্যাসে গ্রামীণ সমাজ জীবনের চিত্র প্রাধান্য লাভ করেছে। সমাজ জীবনের চিত্র প্রাধান্য লাভ করেছে। সীতারাম বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়ের একটি রাজনৈতিক উপন্যাস ক্ষুদ্র সামন্ত রাজ্যের উত্থানপতনের ইতিহাস, পারিবারিক জীবনের সমস্যা প্রভৃতি বিষয়গুলাে এ উপন্যাসে স্থান পেয়েছে।

৩০. নিচের কোন চরিত্র দুটি রবীন্দ্রনাথের ‘ঘরে বাইরে’ উপন্যাসের?

(ক) বিহারী-বিনোদিনী
(খ) নিখিলেস-বিমলা
(গ) মধুসূদন-কুমুদিনী
(ঘ) অমিত-লাবণ্য

উত্তরঃ (খ) নিখিলেস-বিমলা

ব্যাখ্যা: বিহারী-বিনােদিনী চরিত্র দুটি রবীন্দ্রনাথের ‘চোখের বালি উপন্যাসের। নিখিলেস-বিমলা চরিত্র দুটি রবীন্দ্রনাথের ঘরে-বাইৱে” উপন্যাসের। মধুসূদন-কুমুদিনী চরিত্র দুটি রবীন্দ্রনাথের যােগাযােগ অমিত-লাবণ্য চরিত্র দুটি রবীন্দ্রনাথের শেষের কবিতা উপন্যাসের।

৩১. কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস?

(ক) রিক্তের বেদন
(খ) সর্বহারা
(গ) আলেয়া
(ঘ) কুহেলিকা

উত্তরঃ (ঘ) কুহেলিকা

ব্যাখ্যা: ‘কুহেলিকা’ কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস। ‘রিক্তের বেদন’ কাজী নজরুল ইসলামের গল্পগ্রন্থ। ‘সর্বহারা’ কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ এবং ‘আলেয়া’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাটক।

৩২. কোনটি মাইকেল মদুসূদন দত্তের পত্র কাব্য?

(ক) ব্রজাঙ্গনা
(খ) বিলাতের পত্র
(গ) বীরাঙ্গনা
(ঘ) হিমালয়

উত্তরঃ (গ) বীরাঙ্গনা

ব্যাখ্যা: মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বীরাঙ্গনা’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য। এ কাব্যে মোট এগারটি পত্র আছে। এ কাব্যে মধুসূদন দত্ত পৌরাণিক নারীদের আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত করেছেন। ‘ব্রজাঙ্গনা’ মধুসূদন দত্ত রচিত রাধা-কৃ্ষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য। ‘হিমালয়’ জলধর সেন রচিত ভ্রমণকাহিনি। আর ‘বিলাতের পত্র’ ভ্রমণ কাহিনীর রচয়িতা গিরিশচন্দ্র বসু।

৩৩. ‘একখানি ছোট ক্ষেত আমি একেলা’-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কবিতার চরণ?

(ক) সোনার তরী
(খ) চিত্রা
(গ) মানসী
(ঘ) বলাকা

উত্তরঃ (ক) সোনার তরী

ব্যাখ্যা: ‘একখানি ছোট ক্ষেত আমি একেলা ‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘সোনার তরী’ কবিতার চরণ। ‘সোনার তরী’ কাব্যগ্রন্থের নামকবিতা হচ্ছে। ‘সোনার তরী’ অন্যদিকে মানসী, চিত্রা ও বলাকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ।

৩৪. ‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি’-কবিতাটি কার লেখা?

(ক) শামসুর রাহমান
(খ) আল মাহমুদ
(গ) আবুল ফজল
(ঘ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

উত্তরঃ (ঘ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

ব্যাখ্যা: ‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি’ কবিতাটি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত ‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি কাব্যগ্রন্থের নামকবিতা। শামসুর রাহমান রচিত বিখ্যাত কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’। আল মাহমুদ রচিত বিখ্যাত কবিতা ও কাব্যগ্রন্থ ‘সোনালী কাবিন।’ আবুল ফজল কথাশিল্পী হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তার রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: চৌচির, গল্প, মাটির পৃথিবী।

৩৫. কোনটি শওকত ওসমানের রচনা নয়?

(ক) চৌরসন্ধি
(খ) ক্রীতদাসের হাসি
(গ) ভেজাল
(ঘ) বনি আদম

উত্তরঃ (গ) ভেজাল

ব্যাখ্যা: ‘চৌরসন্ধি’, ক্রীতদাসের হাসি’ ও ‘বনি আদম ‘ শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস । অন্যদিকে ‘ভেলাজ’ সুকান্ত ভট্রাচার্য রচিত বিখ্যাত কবিতা।